মাদুরোর মতো পুতিনকেও তুলে নেয়ার পরিকল্পনা আছে কিনা, জানালেন ট্রাম্প





ডোনাল্ড ট্রাম্প যুগে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কের হালচাল বদলেছে। তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই দু’দেশের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক দেখা গেলেও ট্রাম্পের সময়ে ভিন্নতা দেখা গেছে। রাশিয়া ইস্যুতে বরাবরই ট্রাম্পের সুর নরম থাকে। ভেনেজুয়েলায় হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয়ার পর একের পর এক দেশ ও অঞ্চলকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে রাশিয়া ইস্যুতে এখনো তিনি নমনীয়।





মাদুরো তুলে নেয়ার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রেও একই পরিকল্পনা করতে পারেন ট্রাম্প। তবে তাদের সেই বক্তব্যের পালে হাওয়া দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, পুতিনকে নিয়ে তিনি ‘ভীষণ হতাশ’ হলেও তাকে তুলে আনার মতো পরিকল্পনার কোনো ‘প্রয়োজন নেই’।



ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতোমধ্যে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র তুলে নেয়ার পর দেয়া এক বক্তব্য সরাসরি নাম না নিয়েই জেলেনস্কি বলেছিলেন, যদি ‘স্বৈরশাসকদের’ এভাবে শায়েস্তা করতে হয়, তাহলে ‘এরপর কী করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র সেটা ভালোই জানে।’




জেলেনস্কির সেই মন্তব্য এবং ট্রাম্প কখনো পুতিনকে আটক করতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি মনে করি না, সেটার প্রয়োজন হবে। আমাদের সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল এবং থাকবে। আমি খুবই হতাশ। আমি আটটি যুদ্ধ মীমাংসা করেছি। আমি ভেবেছিলাম এটি (রাশিয়া-ইউক্রেন) থামানো হয়তো তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।




প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দুই পক্ষের সেনাদের অকাতরে মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘গত মাসে তারা ৩১ হাজার মানুষ হারিয়েছে। তাদের অনেকেই ছিলেন রুশ সেনা। রাশিয়ার অর্থনীতি খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত আমরা এটি মীমাংসা করতে পারব। আমি এটি আরও দ্রুত বন্ধ করতে চেয়েছিলাম। কারণ অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, যাদের অধিকাংশই সৈনিক।’

 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url